Thursday April 2026

হটলাইন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮ এ ০১:০৬ AM

একটি নামজারীর পেছনের গল্প

কন্টেন্ট: গল্প নয় সত্যি

একটি নামজারীর অন্তরালে

(মূল নাম-ঠিকানা গোপন রাখা হলো)

পাকিস্তান আমলে আত্মীয়-স্বজন সহিত গোয়ালন্দের ছোটভাকলা থাকতেন জনাব বসন্ত কুমার। তবে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে তার বাবা-চাচাগণ জমি-জমা বিক্রি না করেই ভারত চলে যান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের জমি প্রথমে শত্রু সম্পত্তি ও পরবর্তিতে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। তাদের কিছু জমি “খ” তফশিলভূক্ত হয় যার খবর পেয়ে বসন্ত কুমার ভারত হতে এদেশে চলে আসেন এবং তাদের খ তফশিলভূক্ত জমি নামজারী করাতে থাকেন। বর্তমানে জনাব বসন্ত কুমার সত্তরোর্ধ্ব একজন প্রবীন ব্যক্তি ফলে ১৯৬৫ সালে বসন্ত কুমার যুবক হওয়ায় এবং ঐ সময়ের আশেপাশে SA রেকর্ড হওয়ায় তিনি তার চাচাদের সব খতিয়ান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। যখনই এরূপ কোন সূত্রের সন্ধান পেতেন তখনই ভারত হতে গোয়ালন্দে এসে সেরূপ বিষয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেন। এসমস্ত কারনে তিনি মাঝেমধ্যে ভারতে থাকতেন মাঝেমধ্যে এদেশে। চাচাদের পুত্রহীন দেখিয়ে তিনি তার নিজের নামে কিছু কিছু জমি নামজারী করে নিতেন। তবে বাস্তবে ভোগদখলকার অন্য ব্যক্তি হওয়ায় হয় তিনি শক্তিশালী কারো কাছে জমি কম দামে বিক্রি করে দিতেন অথবা ভোগদখলদারের সাথে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করতেন। গোয়ালন্দে এসে একা থাকতেন আবার মাঝেমধ্যে হাতে নগদ টাকাও পেতেন ফলে একসময় তিনি চল্লিশোর্ধ্ব এক মহিলাকে বিয়ে করে ফেলেন। একবার উল্লিখিত রূপের এক জমির নামজারী করতে আসেন যা প্রায় ৪০ বছর যাবৎ আরেক ব্যক্তির ভোগদখলে ছিল। ঐ ব্যক্তি আবার অন্য আরেক ব্যক্তি হতে জমিটি ক্রয় করেন কিন্তু বসন্ত কুমারের চাচা হতে হস্তান্তরের পীট দলিল তার কাছে নেই। ফলে কারও নামেই নামজারী করা হয়নি। এ বিষয়ে বসন্ত কুমার নানা তদবির করতে থাকেন। এক সময় তার নব পরিণীতাও আসেন। তিনি জানান যে তার ছেলে ঢাকায় লেখা-পড়া করে। তার অনেক খরচ। কিছু সহায়তার জন্য তিনি হিন্দু থেকে খৃস্টান হয়েছেন। বসন্ত কুমার জমি বেচে তাকে টাকা দেবে- একারনে তিনি তাকে বিয়ে করেছেন। তার ছেলে তার ধর্মান্তকরণ, বিয়ে ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানেনা। জমি বিক্রয়ের কিছু টাকা পেলেই তিনি চলে যাবেন।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন